দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অবস্থা নিয়ে তুলনা প্রায়শই রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়। সম্প্রতি পলাশবাড়িতে রাম মন্দির নির্মাণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় সনাতনীদের সমাবেশে উস্কানিমূলক বক্তব্যের পর আবারো বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত ও সম্মানজনক জীবন যাপন করছেন, যেখানে ভারতে মুসলিমরা ক্রমাগত চাপ ও নির্যাতনের শিকার।
বাংলাদেশে হিন্দুরা জনসংখ্যার প্রায় ৮%। ঐতিহ্যগতভাবে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি শতাব্দী প্রাচীন। দুর্গাপূজা, ঈদসহ সকল উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়। শিক্ষা, চাকরি ও ব্যবসায় হিন্দুদের অংশগ্রহণ জনসংখ্যার অনুপাতের চেয়ে সন্তোষজনক। আওয়ামী লীগ হিন্দুদের নিয়ে রাজনীতি করেছিল কারণ হিন্দুরা ছিল তাদের ভোটব্যাংক এবং আওয়ামী লীগের সময় হিন্দুরা সুরক্ষিত এই ন্যারেটিভ তাদের রাজনীতির অংশ যার পেছনে ইন্দন রয়েছে ভারতের। এই ন্যারেটিভের বাইরে সত্যটা হলো, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের হিন্দুরা ধর্মীয় স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা অন্যান্য নাগরিকদের মতো সমানভাগে উপভোগ করেন।
অন্যদিকে ভারতে মুসলিমরা জনসংখ্যার প্রায় ১৪.২% হওয়া সত্ত্বেও সাচার কমিটির রিপোর্ট অনুসারে শিক্ষা, চাকরি ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে। হিজাব বিতর্ক, গরু-সংক্রান্ত সহিংসতা, লিঞ্চিং এবং সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ তাদের জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। CAA-NRC-এর মতো নীতি নাগরিকত্ব হারানোর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এর পেছনে ভারতের বিজেপি-নেতৃত্বাধীন হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির ইন্ধন রয়েছে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন। ভারতে হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র কায়েম করে মুসলমানদের চাপে রাখার মতোই বাংলাদেশেও সাম্প্রদায়িক উস্কানি তৈরি করা হচ্ছে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ফাঁদে পড়লে দেশে অস্থিরতা কমবে না। বাংলাদেশেও একটি রাজনৈতিক দল ধর্মভিত্তিক দেশ পরিচালনার স্বপ্ন দেখছে, যা সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে হুমকির মুখে ফেলছে।
দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা দেখিয়েছে যে ধর্ম একমাত্র ভিত্তি নয়। তবু উপমহাদেশে ধর্মীয় রাজনীতি বিভেদ সৃষ্টি করে চলেছে।
সবশেষে, বাংলাদেশের মানুষ সম্প্রীতি প্রিয় যার কারণে বাংলাদেশ তার ঐতিহ্যগত সম্প্রীতি ধরে রেখে হিন্দুসহ সকল সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে । অন্যদিকে ভারতের উচিত মুসলিমদের ওপর চাপ কমিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়া, আর প্রতিবেশি দেশের প্রতি উস্কানিমূলক আচরণ বন্ধ করা। ধর্মীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে শান্তি ও সম্মানের পথে এগোতে হবে দুই দেশকে, তাহলেই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে এমনটাই মনে করছেন ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘু বনাম ভারতের মুসলিম সংখ্যালঘু: সম্প্রীতির বাস্তবতা, ধর্মীয় রাজনীতি ও বহিরাগত প্রভাব
14