অন্যায়, অসাম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করে মানবমুক্তি, সাম্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী আজ।
১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দে অবিভক্ত ভারতের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা সাহিত্যের এই বিদ্রোহী কবি। শোষণ-বঞ্চনার বাস্তবতা থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন বিদ্রোহ, মানবতা ও সমতার কণ্ঠস্বর।
তার সাহিত্য, গান, কবিতা ও প্রবন্ধে বারবার উঠে এসেছে অন্যায়, ধর্মীয় ভণ্ডামি, সামাজিক বৈষম্য ও ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ। একইসঙ্গে প্রেম, মানবতা ও সাম্যের জয়গান ছিল তার সৃষ্টির মূল সুর।
জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার জয়গান গেয়েছেন এবং সকল যুগের মানুষের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে আছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরাধীন জাতিকে জাগিয়ে তুলতে নজরুলের সাহিত্য ও সৃজনশীলতা ছিল দিকনির্দেশক বাতিঘরের মতো, যা আজও প্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে।
এদিকে জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, নজরুল ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, সংগীত ও কবিতা পরিবেশনার মাধ্যমে কবিকে স্মরণ করা হচ্ছে।
সরকার ‘নজরুলবর্ষ’ ঘোষণা করেছে, যেখানে আগামী এক বছরজুড়ে জাতীয় কবির জীবন ও সাহিত্য নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া ত্রিশালসহ নজরুল-স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতেও চলছে বিশেষ আয়োজন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনেও কবিকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। বিভিন্ন দল ও সংগঠন নজরুলের মানবতাবাদী ও বৈষম্যবিরোধী চেতনাকে আজকের সময়েও প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেছে।