আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী অপরিশোধিত তেলের দাম। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ১৯ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ১১০ দশমিক ১০ ডলার। আগের দিন দাম বেড়ে ১১০ দশমিক ৭০ ডলারে উঠেছিল, যা গত ২০ মের পর সর্বোচ্চ।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) নভেম্বরে সরবরাহের চুক্তির দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ৯১ ডলার। অন্যদিকে, বেশি লেনদেন হওয়া ডিসেম্বরের চুক্তির দাম ছিল ৯৮ দশমিক ৯৩ ডলার। চুক্তি দুটি ভিন্ন মাসে সরবরাহের জন্য হওয়ায় এ দামের পার্থক্যকে একই তেলের দামে আকস্মিক পতন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তেলের বাজারে উদ্বেগের বড় কারণ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের ইয়ানবুতে আরামকোর একটি স্থাপনা, শায়বাহ তেলক্ষেত্র ও রিয়াদ বিমানবন্দরসহ কয়েকটি স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এসব দাবি নিশ্চিত করেনি। রয়টার্সও স্বাধীনভাবে তা যাচাই করতে পারেনি। গত দুই সপ্তাহে উপসাগরীয় অঞ্চলে অন্তত ১৮টি জাহাজে হামলার খবর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার ওপর কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কে ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনায় বাজারে অতিরিক্ত রুশ জ্বালানি সরবরাহের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া থেকে বাড়তি ডিজেল সরবরাহের সম্ভাবনার চেয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতির ঝুঁকিকে বাজার বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘদিন বেশি থাকলে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় ও ভর্তুকির ওপর চাপ বাড়তে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে দেশে আসন্ন জ্বালানি সংকট বা শ্রীলঙ্কার মতো অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা করার মতো তথ্য এখনো নেই।
বাংলাদেশে অক্টোবর মাসে খুচরা জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা ও কেরোসিন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।