দীর্ঘ আড়াই মাসেরও বেশি সময় পর এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছেছে জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’। বুধবার (৬ মে) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জাহাজটি কুতুবদিয়া বন্দরে নোঙর করে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই জাহাজ থেকে তেল খালাস শুরু করা হবে। এতে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)-এর পূর্ণমাত্রার উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালুর পথ সুগম হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর অধীনে পরিচালিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শোধনাগার ইআরএল সম্পূর্ণভাবে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রভাবে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটি কাঁচামাল সরবরাহ বন্ধ ছিল।
জি-টু-জি (সরকার-টু-সরকার) চুক্তির আওতায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অপরিশোধিত তেল বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের মাধ্যমে আমদানি করা হয়। তবে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, ফলে কয়েকটি চালান আটকে যায় বা বাতিল হয়ে পড়ে।
এর আগে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেলবাহী একটি জাহাজ ‘নরডিক পোলাক্স’ হরমুজ প্রণালীর কাছে আটকে পড়ে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরেকটি চালান নিরাপত্তাজনিত কারণে বাতিল করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে কাঁচামালের অভাবে গত ১২ এপ্রিল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির প্রধান ক্রুড ডিস্টিলেশন ইউনিট (সিডিইউ) বন্ধ রয়েছে। তবে নতুন চালান থেকে তেল খালাস শুরু হলে শিগগিরই রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা ৭০ লাখ টনের বেশি, যার প্রায় ৯২ শতাংশই আমদানি নির্ভর। এর মধ্যে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল ইআরএল-এ পরিশোধন করা হয়। শোধনাগারটি সৌদি আরবের ‘অ্যারাবিয়ান লাইট’ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘মুরবান ক্রুড’ প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম।