বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম জানিয়েছেন, কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও হরিপুর এলাকায় গড়াই নদী ও পদ্মা নদীর মোহনা সংলগ্ন বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদীমাতৃক পরিবেশ এবং বিস্তৃত বালুচরের কারণে সম্ভাবনাময় পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে।
তিনি বলেন, কুষ্টিয়া শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত গড়াই নদীর সেতু সংলগ্ন এলাকা এবং হরিপুরের পদ্মা নদীর বড় চর অঞ্চল- এই দুই স্থানই নিকটবর্তী জনবসতি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পর্যটনের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কুষ্টিয়া-৩ আসনের (বিরোধী দলীয়) সদস্য মো. আমির হামজার টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
আফরোজা খানম জানান, কুমারখালী এলাকায় গড়াই নদী ও পদ্মার মোহনা এবং আশপাশের চরাঞ্চল ইতোমধ্যে জনপ্রিয় পিকনিক ও ডে-ট্যুর স্পট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায় এই এলাকাকে ‘মিনি কক্সবাজার’ বলা হয়। এখানে নৌকা ভ্রমণ, সূর্যাস্ত উপভোগ এবং স্থানীয় খাবারের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান পর্যটন উন্নয়ন নীতিমালায় নদীভিত্তিক পর্যটন, ইকো-ট্যুরিজম এবং কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটন উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ নীতিমালার আওতায় এই এলাকার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
মন্ত্রী জানান, এখনো সেখানে কোনো চূড়ান্ত প্রকল্প অনুমোদন হয়নি। তবে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। এতে নদীভাঙন ও বন্যা ঝুঁকি, পরিবেশগত প্রভাব, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পর্যটক আকর্ষণের সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, সম্ভাব্যতা যাচাই সাপেক্ষে জনচাহিদার ভিত্তিতে সেখানে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা হতে পারে। এর মধ্যে থাকতে পারে- ওয়াকওয়ে ও নদীতীর উন্নয়ন, ওয়াটার ভিলা ও ওয়াটারফ্রন্ট রেস্টুরেন্ট, নৌকা ভ্রমণ ও নদীভিত্তিক বিনোদন ব্যবস্থা, পিকনিক স্পট ও ওয়াটার পার্ক, ফুড কোর্ট ও স্থানীয় পণ্যের বাজার, পার্কিং, শৌচাগার ও পর্যটক তথ্য কেন্দ্র।