রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে হঠাৎ করেই কমে গেছে জ্বালানি তেল নিতে আসা গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি। কয়েকদিন আগেও যেখানে মোটরসাইকেল ও গাড়ির লম্বা লাইন দেখা যেত, সেখানে এখন অনেকটাই স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বুধবার রাজধানীর নীলক্ষেত, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, মৎস্য ভবন ও এলিফ্যান্ট রোড এলাকার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। অনেক জায়গায় কর্মচারীরা অবসর সময় কাটাচ্ছেন, কারণ আগের মতো ভিড় নেই।
নীলক্ষেত এলাকার একটি পাম্পের কর্মচারীরা জানান, কয়েক ঘণ্টায় আগের তুলনায় খুব কম গ্রাহক আসছেন। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউর এক অপারেটর, যিনি বলেন, আগে যেখানে তেল দিতে হিমশিম খেতে হতো, এখন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জনমনে আতঙ্ক কমে যাওয়া, জ্বালানি তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা চালু হওয়া।
সরকার সম্প্রতি রাজধানীর একাধিক পাম্পে বাধ্যতামূলকভাবে ফুয়েল পাস চালু করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ ১০ শতাংশ এবং অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ বাড়িয়েছে। এর ফলে বাজারে চাপ কমে এসেছে।
গ্রাহকদের মতে, আগের তুলনায় এখন তেল নেওয়া অনেক সহজ হয়েছে। একজন শিক্ষার্থী জানান, ফুয়েল পাস ব্যবস্থার কারণে ভিড় কমেছে এবং আতঙ্কও নেই।
পাম্প মালিকদের সংগঠনের নেতারা বলছেন, সরবরাহ বাড়ানোই ছিল মূল সমাধান। তাদের মতে, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় লাইনের প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে।
তবে কিছু পাম্পে ফুয়েল পাসে নিবন্ধনের জন্য সামান্য ভিড় দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিবন্ধনের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং ইতোমধ্যে কয়েক লাখ মোটরসাইকেল এই ব্যবস্থার আওতায় এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ঘিরে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই কমে এসেছে। ফলে রাজধানীর জ্বালানি বাজারে স্বাভাবিকতা ফিরে আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।