প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের অটল অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে অংশ নেন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-এর সদস্যরা।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, বৈঠকে সরকারপ্রধান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে তাঁর সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তিনি নিয়মিত পত্রিকা পড়েন ও টেলিভিশন দেখেন এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
বৈঠকে নোয়াব সদস্যদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত বিরতিতে এমন আলোচনা আয়োজনের আশ্বাস দেন। তিনি মনে করেন, প্রতি তিন মাস অন্তর সরকার ও সংবাদপত্র মালিকদের মধ্যে এ ধরনের মতবিনিময় হওয়া উচিত।
বৈঠকের শুরুতে নোয়াব সভাপতি এবং দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী সংবাদপত্র শিল্পের বর্তমান সংকট তুলে ধরেন এবং তা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। নোয়াব নেতারা জানান, একসময় শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই খাত এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত।
তারা আরও উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলোর সময়ের বিপুল পরিমাণ সরকারি বিজ্ঞাপনের বিল বকেয়া রয়েছে, যা দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তারকৃত সাংবাদিকদের জামিনের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান তারা।
প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন এবং একটি গ্রুপ ছবি তোলেন। বিএনপি সরকার গঠনের পর এটি নোয়াবের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।