খাদ্যমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানিয়েছেন, গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত দেশের সরকারি খাদ্যগুদামে মোট ১৭ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এর মধ্যে চালের পরিমাণ ১৪ লাখ ৬৪ হাজার মেট্রিক টন এবং গম রয়েছে ৩ লাখ ৭ হাজার মেট্রিক টন।
সোমবার জাতীয় সংসদে টাঙ্গাইল-৭ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারি গুদামে যে পরিমাণ খাদ্য মজুত রয়েছে, তা সন্তোষজনক। তিনি জানান, খাদ্য মজুত আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার একদিকে বিদেশ থেকে চাল ও গম আমদানি করছে, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরেও ধান, চাল ও গম সংগ্রহ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশ থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহে জি-টু-জি এবং উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র, দুই ধরনের পদ্ধতিই অনুসরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বোরো ও আমন মৌসুমে চুক্তিবদ্ধ রাইস মিল থেকে চাল এবং কৃষি সহায়ক কার্ডধারী প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত দামে ধান ও গম কেনা হচ্ছে।
খাদ্যমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৫ লাখ মেট্রিক টন এবং জি-টু-জি ব্যবস্থায় ১ লাখ মেট্রিক টন, মোট ৬ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির চুক্তি হয়েছে। এর বিপরীতে ইতোমধ্যে ৩ লাখ ৫৭ হাজার মেট্রিক টন চাল দেশে এসেছে। বাকি ২ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন চাল আসার অপেক্ষায় রয়েছে।
গম আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৫০ হাজার মেট্রিক টন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জি-টু-জি চুক্তির আওতায় ৬ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন, মোট ৭ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির চুক্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ লাখ ৩ হাজার মেট্রিক টন গম ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। অবশিষ্ট প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন গমবাহী একটি জাহাজ আগামী ২৪ এপ্রিলের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, আগামী বোরো সংগ্রহ মৌসুমে, যা মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত চলবে, ১২ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে। এফপিএমসির সভায় অনুমোদন মিললে সেই লক্ষ্য অনুযায়ী সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজার ও অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে চাল ও গম সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।