বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর জানিয়েছেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি সবচেয়ে বড়। তিনি বলেন, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ ছাড়া বাকি সার্ক দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ভারসাম্য ঘাটতিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
সোমবার জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য উপস্থাপন করেন।
মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আমদানি-রপ্তানি পরিসংখ্যান অনুযায়ী আফগানিস্তান, ভুটান, ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে ভারতের সঙ্গে এই ব্যবধান সবচেয়ে বেশি।
তথ্য অনুযায়ী, ওই অর্থবছরে বাংলাদেশ আফগানিস্তানে ১১.০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, বিপরীতে সেখান থেকে আমদানি করেছে ২১.৮০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০.৭১ মিলিয়ন ডলার।
ভুটানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ১৪.৩৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করলেও আমদানি করেছে ৪৪.১০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। এতে ঘাটতি হয়েছে ২৯.৭৭ মিলিয়ন ডলার।
সবচেয়ে বড় ব্যবধান দেখা গেছে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে। বাংলাদেশ ভারতীয় বাজারে ১,৭৬৪.২৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করলেও আমদানি করেছে ৯,৬২৪.১০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭,৮৫৯.৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
অন্যদিকে নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চিত্র তুলনামূলক ইতিবাচক। নেপালে বাংলাদেশ ৩৫.৪০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, আর আমদানি করেছে ৫.৫০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।
পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। সেখানে বাংলাদেশ ৭৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করলেও আমদানি করেছে ৭৫৫.৩০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। এতে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৮১.৩ মিলিয়ন ডলার।
শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাণিজ্যে বাংলাদেশ কিছুটা উদ্বৃত্ত অবস্থানে রয়েছে। দেশটিতে ৮২.৮৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, বিপরীতে আমদানি হয়েছে ৭৬.৬০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।
মালদ্বীপের সঙ্গেও বাংলাদেশ উদ্বৃত্তে রয়েছে। সেখানে রপ্তানি হয়েছে ৬.৩৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য, আর আমদানি হয়েছে ৩.৫০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।
সার্বিকভাবে সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, সার্ক অঞ্চলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য ঘাটতির চাপ ভারতের দিক থেকেই আসছে।