সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের চালানো হামলায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি দেশের পূর্ণ সমর্থনের কথাও জানিয়েছে ঢাকা।
এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বেসামরিক মানুষ ও সাধারণ অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হামলা বা সহিংসতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট। এই কঠিন সময়ে সৌদি সরকার ও সে দেশের মানুষের পাশে আছে বাংলাদেশ।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরান এলাকায় হুতিদের এই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। হামলার পর বেশ কিছু জায়গায় আগুন ধরে যায় এবং জ্বালানি কেন্দ্রগুলোর কাজ সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এই হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক মন্দা আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ইয়েমেনের রাজধানী থেকে সরকার উৎখাতের পর হুতিদের বিরুদ্ধে ১০ বছর ধরে যুদ্ধ করছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব জোট। মাঝখানে কিছুদিন যুদ্ধবিরতি থাকলেও সম্প্রতি তা ভেঙে পড়েছে।
বর্তমানে এই যুদ্ধ মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে। একে অপরের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পরাশক্তি দুটি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র যখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই ইরানের তেল বিক্রি বন্ধে কড়া অবরোধ আরোপ করেছে তারা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবার তারা যেসব তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করেছে, সেগুলো একটি গোপন নেটওয়ার্কের অংশ ছিল। এই নেটওয়ার্কটি ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি) এবং তাদের সমর্থিত আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ জুগিয়ে আসছিল।
উল্লেখ্য, হামাস, হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি ও ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের নিয়ে গঠিত জোড়কে ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ বলে থাকে ইরান। দীর্ঘদিন ধরেই তারা এই গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে আসছে।