বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও কৌশলগত ও বহুমাত্রিক পর্যায়ে উন্নীত করার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নজমুল ইসলাম সম্প্রতি দেশটির নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদাম-এর সঙ্গে মালেস্থ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে রাজনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সরাসরি শিপিং সংযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শ্রম ও জনশক্তি খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন ২০২৮–২০৩০ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্যপদ প্রার্থিতায়। বিপরীতভাবে, হাইকমিশনার ড. নজমুল ইসলাম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির প্রার্থিতার ক্ষেত্রে মালদ্বীপের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি এবং চিকিৎসা শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মালদ্বীপে ইন্টার্নশিপের সুযোগ এবং সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদানও স্মরণ করেন।
দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নিয়ে আলোচনা করে জানানো হয়, বন্দি প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক বর্তমানে মালদ্বীপের সংসদীয় অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া সরাসরি শিপিং সংযোগ ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (PTA) সংক্রান্ত ঝুলে থাকা বিষয় দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্য পোষণ করে। আগামী বছরে পরবর্তী পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের (FOC) বৈঠকের সম্ভাবনাও আলোচনা হয়।
হাইকমিশনার ড. নজমুল ইসলাম মালদ্বীপে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈধ অভিবাসন ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে মালদ্বীপীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইরুথিশাম আদাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক), কমনওয়েলথ এবং ওআইসি-তে দুই দেশ অভিন্ন অবস্থান নেয়। তিনি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ওষুধের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা উল্লেখ করে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারের আহ্বান জানান।