আন্তর্জাতিক জলবায়ু ও পরিবেশ অলিম্পিয়াড ২০২৬-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য পাঁচ শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। সারাদেশের ৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে পেছনে ফেলে তারা এ সুযোগ পেয়েছেন।
বাংলাদেশ অলিম্পিয়াড অন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইস্যুজ (বিওসিই) ২০২৬-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দলের সদস্যদের নির্বাচন করা হয়। সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস নেটওয়ার্ক (এসএলএসএন) ও জিরো কম্পিটিশনস যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
গত ১৭ জুলাই অনলাইন প্রাথমিক পর্বের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এরপর ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেটে আঞ্চলিক পর্ব এবং একটি অনলাইন আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এসব পর্বে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
আঞ্চলিক পর্বের সেরা ৩০০ শিক্ষার্থী ২১ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্বে অংশ নেয়। সেখান থেকে নির্বাচিত সেরা ৪০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণে পরিবেশবিদ্যা, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ রসায়ন, জলবায়ুবিজ্ঞান, পৃথিবী-ব্যবস্থা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
পরে ২৭ আগস্ট ঢাকার রাশিয়ান হাউসে চূড়ান্ত দল নির্বাচন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, বিশ্লেষণী দক্ষতা, তথ্য বিশ্লেষণ ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়।
আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য নির্বাচিত পাঁচ শিক্ষার্থী হলেন—আবু মাহজুরাহ আয়মান, ফাবিহা নূরজিনা, ইসমাহ আরুশ, এস এম আনফাল হাবিব ও কামরুন নাহার মেঘা।
বাংলাদেশ দলের দলনেতা হিসেবে থাকবেন তাসিন মোহাম্মদ ও আহনাফ তাহমিদ উদ্দিন। পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকবেন ফেরদৌস আহমেদ।
রাশিয়ার সিরিয়াসে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক জলবায়ু ও পরিবেশ অলিম্পিয়াড ২০২৬-এ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় দল অংশ নেবে। প্রতিযোগিতায় জলবায়ু ও পরিবেশবিজ্ঞান এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে তাত্ত্বিক, ব্যবহারিক ও প্রকল্পভিত্তিক বিভিন্ন পর্ব থাকবে।
আয়োজকরা জানান, বিওসিই-এর লক্ষ্য শুধু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য দল নির্বাচন করা নয়। তরুণদের জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক জ্ঞান বাড়ানো, বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা তৈরি এবং ভবিষ্যতের গবেষক, উদ্ভাবক ও পরিবেশ নেতৃত্ব গড়ে তোলাও এর উদ্দেশ্য।