দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এ মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে সড়ক নিরাপত্তায় নেওয়া প্রকল্পগুলোর অর্জন বাস্তবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) আয়োজিত সড়ক নিরাপত্তা ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারবিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কারও ভুল, স্বেচ্ছাচারিতা বা দায়িত্বে অবহেলার কারণে মানুষের প্রাণহানি মেনে নেওয়া যায় না। ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
সড়ক নিরাপত্তায় বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও প্রকল্পগুলোর সুফল কতটা পাওয়া যাচ্ছে, তা মূল্যায়নের আহ্বান জানান তিনি। আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়নে একের পর এক প্রকল্প নেওয়া হলেও অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বাস্তবে প্রয়োগ করা না গেলে সেমিনার ও কর্মশালা আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনুমানের ভিত্তিতে নয়, তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দুর্ঘটনার তথ্য ভবিষ্যতের সড়ক নির্মাণ ও বড় প্রকল্পের পরিকল্পনায় কাজে লাগাতে হবে।
সড়ক নির্মাণের সময় থেকেই নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সড়ক বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হওয়ার আগেই সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
সড়ক নিরাপত্তায় পুলিশের জন্য বিশেষায়িত বিভাগ গঠন এবং সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের কথাও বলেন মন্ত্রী। পাশাপাশি দক্ষ চালক তৈরি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, গতি নিয়ন্ত্রণ, মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট ব্যবহার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, সড়ক নিরাপত্তা শুধু প্রকৌশলগত বিষয় নয়; এর সঙ্গে জনস্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নও জড়িত। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক প্রকল্পের সুপারিশ বাস্তবায়ন, ক্র্যাশ ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কার্যকর করা এবং সওজের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
কর্মশালায় এডিবি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন, সওজ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।