সাইবার অপরাধ, আর্থিক জালিয়াতি এবং নগর নিরাপত্তা জোরদারে দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো ক্রমেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।
এই ধারাবাহিকতায় রাজধানীতে পুলিশিং ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ সম্প্রতি নয়টি নতুন ডিজিটাল সিস্টেম চালু করেছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকাগুলোতে উন্নত ভিডিও বিশ্লেষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন তাৎক্ষণিক শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণ সংগ্রহ ও ই-প্রসিকিউশন চালু হওয়ায় আইন প্রয়োগের গতি ও স্বচ্ছতা বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং তা ক্রমেই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। তাই আধুনিক ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য।
নতুন স্মার্ট সিসিটিভি ব্যবস্থায় এআই প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় সন্দেহজনক আচরণ, পরিত্যক্ত বস্তু বা সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করা সহজ হচ্ছে। এমনকি অস্ত্র শনাক্তকরণ এবং গুলির শব্দ বিশ্লেষণ করে ঘটনার স্থান দ্রুত নির্ধারণের মতো সক্ষমতাও যুক্ত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও নরসিংদীতে এআই ব্যবহার করে ডিপফেক কনটেন্ট, ভুয়া নথি তৈরি ও প্রতারণার অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এসব অভিযান প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিরুদ্ধে বৃহত্তর কার্যক্রমের অংশ।
নতুন আইনি কাঠামো অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া ডিপফেক তৈরি, প্রতিশোধমূলক পর্নোগ্রাফি বা চাঁদাবাজির মতো অপরাধে এআই ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
এদিকে নাগরিক সেবা উন্নত করতে একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। ‘হ্যালো সিটি’ প্ল্যাটফর্মে নাগরিকরা গোপনে অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য দিতে পারছেন। ‘রিপোর্ট টু বিজিবি’ সীমান্ত নিরাপত্তায় সহায়ক ভূমিকা রাখছে। নারীদের নিরাপত্তার জন্য ‘হেল্প’ প্ল্যাটফর্ম চালু হয়েছে, যেখানে হয়রানির অভিযোগ জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
একইসঙ্গে ৯৯৯ জাতীয় জরুরি সেবা এবং অনলাইন পুলিশ হেল্পলাইন নাগরিকদের দ্রুত সহায়তা পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে এআই ব্যবহারের বিস্তার নিয়ে কিছু উদ্বেগও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণনজরদারি, তথ্যের গোপনীয়তা এবং প্রযুক্তিগত পক্ষপাতের মতো বিষয়গুলোতে সতর্ক থাকতে হবে। এজন্য স্বচ্ছ নীতিমালা, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সব মিলিয়ে, প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থার এই পরিবর্তন অপরাধ দমন, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং জননিরাপত্তা জোরদারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।